এই লেখাটা তাদের জন্য যারা-
১. দাবা খেলার 'দ'-তে আছেন
২. ঘুঁটিগুলো কীভাবে চলে সে বিষয়ে আবছা-আবছা ধারণা 'পেটে আছে কিন্তু মাথায় নাই'
৩. অনলাইনে টুকিটাকি ফান গেমস খেলতে চান, সত্যিকারের বোর্ড নিয়ে বসার সময় নাই
*
অনলাইনে দাবা খেলা শেখার জন্য আপনার তিনটি জিনিস দরকার৷
১. একটি এন্ড্রয়েড ফোন
২. নিয়মানুবর্তিতা
৩. ধৈর্য্য
আজকাল কমবেশি সবারই এন্ড্রয়েড ফোন আছে, ফলে অনলাইনে দাবা খেলা এবং শেখা- দুটোই খুব সহজ। একেবারে আদা-জল খেয়ে যারা শিখতে চান- তাদের জন্য সবসময়ই বোর্ড ও ঘুঁটি কেনার অপশন তো আছেই৷ তবে ধারণা করছি- আপনি একজন ব্যস্ত মানুষ, সময় অসময়ে নানাবিধ কাজকর্ম আপনার লেগেই থাকে৷ ফলে বোর্ড ঘুঁটি কিনে সময় নিয়ে প্র্যাকটিস করার লাক্সারি আপনার নাই৷
ঝটপট দুটি এন্ড্রয়েড এপ্লিকেশন ডাউনলোড করে নিন। প্রথমটি চেসডটকম, দ্বিতীয়টি লিচেস (lichess)। প্লেস্টোরে পেয়ে যাবেন সহজেই৷ এরা আপনার ফোনে বড় জায়গা খেয়ে ফেলবে না, কোনো চিন্তা নেই৷ আকারে আয়তনে খুবই ছোট৷
ডাউনলোড করা হয়ে গেলে নিয়ম অনুসরণ করে একাউন্ট খুলে ফেলুন। এবার আমাদের কাজ হবে- এপ্লিকেশন দুটির ভেতরের ফিচার নেড়েচেড়ে দেখা৷ আগেই খেলা শুরু করতে যাবেন না (চাইলে করতেও পারেন যদি পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে থাকে)৷ তবে, যেখানে খেলতে চাইছেন, খেলা শুরুর পূর্বে মাধ্যমটার সাথে আত্মিক মিত্রতা ঘটানোই হবে বুদ্ধিমানের কাজ৷ এতে করে দাবা খেলাটাকে আরো সুন্দর ও পুষ্টিকর ঠেকবে৷
সময় নিয়ে আলাদাভাবে দুটি এপ্লিকেশনের ফিচার চেক করুন৷ কোথায় কি কি অপশন আছে, কোন ক্লিকে কি কাজ করে- সেগুলো এক্সপ্লোর করুন৷ চেসডটকম মূলত দাবাড়ুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মতো৷ ফলে এখানে আছে অসংখ্য ফিচার৷ আর্টিকেল, ব্লগ থেকে শুরু করে দাবা বিশ্বের হালচাল- সবকিছুই আপডেটেড অবস্থায় পাবেন৷
দুই একটা আর্টিকেল পড়ে দেখুন৷ আমি সাজেস্ট করবো 'গ্লোসারি অফ চেস টার্মস' পড়ে ফেলার৷ দাবার বিভিন্ন টার্ম সম্পর্কে পরিচিত হবেন তখনই এবং উদাহরণ সহ৷ পিন, ফর্ক, গ্যাম্বিট- প্রভৃতি সম্পর্কে বেসিক ধারণা থাকলে আপনি যখন সত্যিকারের গেম খেলতে নামবেন, তখন ভালোভাবেই রিলেট করতে পারবেন৷ এই রিলেশন তথা সম্পর্ক স্থাপন করা খুবই জরুরি৷
ধারণা করছি- গ্লোসারি অফ চেস টার্মস আপনি পড়া শুরু করেছেন৷ এবং টুকিটাকি সংজ্ঞা আপনি জানেন৷ এবার আসুন, আমরা খেলা শুরু করি৷
দাবা খেলতে নেমে অনেকেই সবার আগে বইপত্র কিনতে চান, অথবা পিডিএফ পড়তে চান৷ ভুল করবেন৷ শুরুতেই বই পড়তে হয় না৷ ধ্বনি, বর্ণ, শব্দ, বাক্য- এগুলো সম্পর্কে সম্যক ধারণা আসার আগেই গল্প-উপন্যাস পড়া শুরু করলে আপনি কিছুই বুঝবেন না, উলটো হতাশায় আক্রান্ত হবেন৷ সুতরাং, আগেই বইপত্র পড়ার কোনো দরকার নাই। আগে আপনার দরকার ঘুঁটিগুলোর সাথে পরিচিতি এবং বন্ধুত্ব।
দাবার প্রতিটি ঘুঁটির নাম আপনি জানেন৷ চেনেন কোনটা হাতি আর কোনটা ঘোড়া৷ কিন্তু ইংরেজিতে (দাবার ভাষায়) এদের কি নামে ডাকা হয়, তা জানেন তো? হর্স এবং এলিফ্যান্ট।
না! দাবার ভাষা অন্যসব ভাষা থেকে একটু আলাদা৷ ঘোড়াকে ডাকা হয় নাইট নামে (নাইটের আগে K আছে!) এবং হাতিকে ডাকা হয় বিশপ নামে। প্রতিটি ঘুঁটির জন্য ব্যবহার করা হয় ইনিশিয়ালস বা আদ্যাক্ষর।
সৈন্য তথা PAWN (দাবার প্রাচীন যুগে সৈন্যকে লেখা হতো P বর্ণ দিয়ে। এখন যুগ পাল্টেছে৷ কি নামে লেখা হয়- এই ব্যাখ্যায় আসছি দ্রুত৷
ঘোড়া তথা KNIGHT (K সাইলেন্ট থাকায় লেখা হয় N দিয়ে)
হাতি তথা BISHOP - লেখা হয় B দিয়ে
নৌকা তথা ROOK (BOAT নয়!), লেখা হয় R দিয়ে
রাজা তথা KING - লেখা হয় K দিয়ে
মন্ত্রী তথা QUEEN - লেখা হয় Q দিয়ে
সোজা না? ব্যস! শিখে ফেললেন ঘুঁটিগুলোর নাম৷ এবার আমরা বোর্ড খেয়াল করবো এবং নোটেশন শিখবো৷
দাবার বোর্ডে আছে ৬৪ টি ঘর৷ সমস্ত সৈন্য সামনে বসিয়ে ঘোড়া হাতি বসালেন জায়গামতো৷ সাদা পক্ষের মন্ত্রী বসবে সাদা ঘরে, কালো পক্ষের মন্ত্রী বসবে কালো ঘরে৷ বাকি ফাঁকা থাকে রাজার ঘর৷ বসিয়ে দিন৷ ব্যস, বোর্ড বসানো ডান!
বোর্ডের প্রতিটি কলাম এবং সারিরও কিন্তু আলাদা নাম আছে৷ প্রতিটি কলাম এ বি সি ডি দিয়ে এইচ পর্যন্ত, এবং প্রতিটি সারি ১-২-৩-৪ এভাবে ৮ পর্যন্ত৷ খেয়াল করে দেখুন তো- আপনি যখন বোর্ড সাজিয়েছেন, তখন ঘুঁটিগুলোর অবস্থান কেমন? সাদার সমস্ত সৈন্য আছে দুই নাম্বার সারিতে, এবং কালোর সমস্ত সৈন্য আছে সপ্তম সারিতে। উভয় পক্ষের রুক তথা নৌকা আছে যথাক্রমে a1, h1, a8 এবং h8 ঘরে। তাই নয় কি? নোটেশন লিখতেও আমরা এভাবে বর্ণ এবং সংখ্যা ব্যবহার করবো।
সুতরাং, যদি ঘোড়া b কলাম (বা ফাইলের) ৬ নম্বর সারিতে অবস্থান করে- তাহলে আমরা নোটেশন কীভাবে লিখবো?
ঘোড়া = Knight = N
আছে b কলামে, সুতরাং- Nb, পাওয়া গেলো ঘোড়া কোন বর্গে আছে, সেই অবস্থান।
উক্ত অবস্থান আরো এক্যুরেটভাবে বুঝতে হলে আমাদের প্রয়োজন একটি সংখ্যা।
আছে ৬ নাম্বার সারিতে।
সুতরাং, যদি ঘোড়া b কলাম (বা ফাইলের) ৬ নম্বর সারিতে অবস্থান করে- তাহলে আমরা নোটেশন লিখবো: Nb6
এভাবে প্রতিটি ঘুঁটির জন্য একই নিয়ম। দুইচারবার প্র্যাক্টিস করলেই ধীরে ধীরে জেনে যাবেন নোটেশন লেখার পুরো ধরণ।
আজ এটুকুই, পরবর্তী পর্বে আমরা শিখবো কীভাবে দাবার ভেতরে আরেকটু প্রবেশ করা যায়। আপনাদের কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে জানাতে পারেন, সেগুলোও পরবর্তী পর্বে উত্তর দেয়া হবে!
Comments
0